আজকের চাঁপাই | আপডেট: 12:13 PM, November 7, 2026
মহান আল্লাহর ৯৯টি নামের পেছনের তাৎপর্য ও ফজিলত
মহান আল্লাহ তাআলার অসংখ্য গুণ ও মহিমা রয়েছে। তাঁর পবিত্র সত্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুন্দর সুন্দর নামের মাধ্যমে এসব গুণের পরিচয় পাওয়া যায়। আল্লাহ নিজেই তাঁর জন্য এসব নাম নির্ধারণ করেছেন, যা পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
কোরআনে আল্লাহর এসব নামকে ‘আল-আসমাউল হুসনা’ অর্থাৎ সর্বোত্তম ও সুন্দরতম নাম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের চারটি আয়াতে আলোচনা রয়েছে। সুরা আল-আরাফে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আল্লাহর জন্য রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো।’
(সুরা আল-আরাফ, আয়াত : ১৮০)
এ ছাড়া সুরা আল-ইসরা (১৭:১১০) এবং সুরা আল-হাশরের (৫৯:২২) আয়াতেও আল্লাহর সুন্দর নামের উল্লেখ রয়েছে।
হাদিসে আল্লাহর ৯৯টি নামের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এসব নামের অর্থ জানা, মুখস্থ করা, সংরক্ষণ করা এবং জীবনে সেগুলোর তাৎপর্য উপলব্ধি করার গুরুত্ব অপরিসীম। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে। যে ব্যক্তি সেগুলো সংরক্ষণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’
(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৭৩৬)
অন্য বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর এসব নাম গণনা করবে এবং যথাযথভাবে আয়ত্ত করবে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।
আল্লাহর ৯৯টি নামের তালিকা নিয়ে মতপার্থক্য
আল্লাহর ৯৯টি নামের বিষয়ে হাদিসে যেমন ফজিলত বর্ণিত হয়েছে, তেমনি বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে নামগুলোর তালিকাও পাওয়া যায়। বুখারি ও মুসলিম শরিফে ৯৯টি নামের নির্দিষ্ট তালিকা উল্লেখ না থাকলেও সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে তিরমিজি এবং আল-মুস্তাদরাকসহ কয়েকটি হাদিসগ্রন্থে নামের তালিকা সংকলিত হয়েছে।
তবে বিভিন্ন গ্রন্থে পাওয়া তালিকার মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে আলেমদের মধ্যে কোন তালিকাটি গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে আলোচনা ও মতভেদ দেখা যায়। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ইমাম তিরমিজির বর্ণিত তালিকাকে গ্রহণ করেছেন।
নিচে সেই তালিকা অর্থসহ তুলে ধরা হলো।
মহান আল্লাহর ৯৯টি সুন্দর নাম ও অর্থ
হুয়াল্লাহুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া
১. আর-রহমান — পরম করুণাময়।
২. আর-রহিম — অসীম দয়ালু।
৩. আল-মালিক — সর্বময় অধিপতি।
৪. আল-কুদ্দুস — মহাপবিত্র।
৫. আস-সালাম — ত্রুটিমুক্ত ও শান্তিদাতা।
৬. আল-মুমিন — নিরাপত্তাদানকারী।
৭. আল-মুহাইমিন — সর্বতত্ত্বাবধায়ক ও সংরক্ষণকারী।
৮. আল-আজিজ — মহাপরাক্রমশালী।
৯. আল-জাব্বার — মহাপ্রতাপশালী ও সংশোধনকারী।
১০. আল-মুতাকাব্বির — মহত্ত্ব ও বড়ত্বের অধিকারী।
১১. আল-খালিক — সৃষ্টিকর্তা।
১২. আল-বারি — অস্তিত্বদানকারী।
১৩. আল-মুসাওয়ির — আকৃতিদানকারী।
১৪. আল-গাফফার — বারবার ক্ষমাকারী।
১৫. আল-কাহহার — সর্বজয়ী ও পরাভূতকারী।
১৬. আল-ওয়াহহাব — মহাদাতা।
১৭. আর-রাজ্জাক — রিজিকদাতা।
১৮. আল-ফাত্তাহ — উন্মুক্তকারী ও ফয়সালাকারী।
১৯. আল-আলিম — সর্বজ্ঞ।
২০. আল-কাবিদ — সংকোচনকারী।
২১. আল-বাসিত — সম্প্রসারণকারী।
২২. আল-খাফিদ — অবনতকারী।
২৩. আর-রাফি — উন্নীতকারী।
২৪. আল-মুইয — সম্মানদাতা।
২৫. আল-মুযিল — অপমানিতকারী।
২৬. আস-সামি — সর্বশ্রোতা।
২৭. আল-বাসির — সর্বদ্রষ্টা।
২৮. আল-হাকাম — চূড়ান্ত ফয়সালাকারী।
২৯. আল-আদল — ন্যায়বিচারক।
৩০. আল-লতিফ — অতি সূক্ষ্মদর্শী ও অনুগ্রহশীল।
৩১. আল-খবির — সর্ববিষয়ে অবহিত।
৩২. আল-হালিম — পরম সহনশীল।
৩৩. আল-আজিম — মহামহিম।
৩৪. আল-গাফুর — পরম ক্ষমাশীল।
৩৫. আশ-শাকুর — অল্প আমলের অধিক প্রতিদানদাতা।
৩৬. আল-আলিয়্যু — সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
৩৭. আল-কাবির — সর্বশ্রেষ্ঠ ও মহান।
৩৮. আল-হাফিজ — সংরক্ষণকারী।
৩৯. আল-মুকিত — জীবিকা ও শক্তি সরবরাহকারী।
৪০. আল-হাসিব — হিসাব গ্রহণকারী ও যথেষ্ট।
৪১. আল-জালিল — মহিমান্বিত।
৪২. আল-কারিম — মহাদানশীল।
৪৩. আর-রাকিব — সদা পর্যবেক্ষণকারী।
৪৪. আল-মুজিব — দোয়া কবুলকারী।
৪৫. আল-ওয়াসি — অসীম ব্যাপকতার অধিকারী।
৪৬. আল-হাকিম — প্রজ্ঞাময়।
৪৭. আল-ওয়াদুদ — পরম প্রেমময়।
৪৮. আল-মাজিদ — মহাগৌরবময়।
৪৯. আল-বা’ইস — পুনরুত্থানকারী।
৫০. আশ-শাহিদ — সর্বসাক্ষী।
৫১. আল-হাক্ক — চিরসত্য।
৫২. আল-ওয়াকিল — কর্মবিধায়ক ও নির্ভরযোগ্য অভিভাবক।
৫৩. আল-কাওয়িয়্যু — মহাশক্তিশালী।
৫৪. আল-মাতিন — সুদৃঢ় শক্তির অধিকারী।
৫৫. আল-ওয়ালিয়্যু — অভিভাবক ও সাহায্যকারী।
৫৬. আল-হামিদ — সব প্রশংসার অধিকারী।
৫৭. আল-মুহসি — সবকিছুর হিসাব সংরক্ষণকারী।
৫৮. আল-মুবদি — প্রথমবার সৃষ্টিকারী।
৫৯. আল-মু’ঈদ — পুনরায় সৃষ্টিকারী।
৬০. আল-মুহয়ি — জীবনদানকারী।
৬১. আল-মুমিত — মৃত্যুদানকারী।
৬২. আল-হাইয়্যু — চিরঞ্জীব।
৬৩. আল-কাইয়্যুম — স্বয়ং প্রতিষ্ঠিত এবং সবকিছুর ধারক ও রক্ষণাবেক্ষণকারী।
৬৪. আল-ওয়াজিদ — অভাবমুক্ত ও সর্বপ্রাপ্ত।
৬৫. আল-মাজিদ — মহামর্যাদাবান।
৬৬. আল-ওয়াহিদ — একক।
৬৭. আস-সামাদ — অমুখাপেক্ষী ও সবার আশ্রয়স্থল।
৬৮. আল-কাদির — সর্বক্ষমতাবান।
৬৯. আল-মুকতাদির — পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী।
৭০. আল-মুকাদ্দিম — অগ্রসরকারী।
৭১. আল-মুয়াখখির — পশ্চাত্বর্তীকারী।
৭২. আল-আউয়াল — সর্বপ্রথম।
৭৩. আল-আখির — সর্বশেষ।
৭৪. আয-জাহির — প্রকাশ্য ও সর্বোচ্চ।
৭৫. আল-বাতিন — অপ্রকাশ্য ও অন্তর্নিহিত।
৭৬. আল-ওয়ালি — সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী।
৭৭. আল-মুতা’আলি — সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
৭৮. আল-বার্র — পরম কল্যাণকারী।
৭৯. আত-তাওয়াব — তাওবা কবুলকারী।
৮০. আল-মুনতাকিম — প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
৮১. আল-আফুউ — পাপ মোচনকারী।
৮২. আর-রাউফ — পরম স্নেহশীল।
৮৩. মালিকুল মুলক — সমগ্র রাজত্বের মালিক।
৮৪. যুল-জালালি ওয়াল-ইকরাম — মহিমা ও সম্মানের অধিকারী।
৮৫. আল-মুকসিত — ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাকারী।
৮৬. আল-জামি — একত্রকারী।
৮৭. আল-গানিয়্যু — অমুখাপেক্ষী ও অভাবমুক্ত।
৮৮. আল-মুগনি — অভাবমোচনকারী।
৮৯. আল-মানি — প্রতিরোধকারী।
৯০. আদ-দার — ক্ষতি সংঘটনের ক্ষমতার অধিকারী।
৯১. আন-নাফি — উপকারদানকারী।
৯২. আন-নূর — আলো।
৯৩. আল-হাদি — পথপ্রদর্শক।
৯৪. আল-বাদি — অতুলনীয় সৃষ্টির উদ্ভাবক।
৯৫. আল-বাকি — চিরঅবশিষ্ট।
৯৬. আল-ওয়ারিস — চূড়ান্ত উত্তরাধিকারী।
৯৭. আর-রাশিদ — সঠিক পথপ্রদর্শক।
৯৮. আস-সবুর — অত্যন্ত ধৈর্যশীল।
৯৯. আল-আহাদ — এক ও অদ্বিতীয়, যার কোনো সমকক্ষ বা অংশীদার নেই।
তালিকার সূত্র: সুনানে তিরমিজি, আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত; ফাতহুল বারি, ১১/২১৩।
আল্লাহর নাম কি শুধু ৯৯টি?
আল্লাহর সুন্দর নামের সংখ্যা নিয়ে ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, মহান আল্লাহর নাম কি কেবল ৯৯টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি তাঁর নামের সংখ্যা আরও বেশি?
এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে প্রধানত দুটি মত পাওয়া যায়।
প্রথম মত অনুযায়ী, আল্লাহর নামের সংখ্যা ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ। এ মতের অনুসারীরা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের বক্তব্যকে সরাসরি গ্রহণ করেছেন।
অন্যদিকে দ্বিতীয় মতের আলেমরা মনে করেন, আল্লাহর নাম কেবল ৯৯টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তাঁর পবিত্র সত্তার উপযোগী আরও অনেক সুন্দর নাম রয়েছে। এ মতের পক্ষে তাঁরা কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছেন।
প্রথমত, বিভিন্ন হাদিসে নামের তালিকায় ভিন্নতা রয়েছে। আল্লাহর ৯৯টি নামের তালিকা নিয়ে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় একাধিক রূপ পাওয়া যায়। ফলে কোনো একটি তালিকাকে চূড়ান্ত ও সর্বসম্মত হিসেবে নির্ধারণ করা কঠিন।
দ্বিতীয়ত, কোরআনে উল্লেখিত কিছু নাম তিরমিজির তালিকায় নেই। যেমন—আল-মাওলা (অভিভাবক), আল-খাল্লাক (মহাস্রষ্টা) এবং আল-মুদাব্বির (পরিচালনাকারী)। অন্যদিকে তিরমিজির তালিকায় এমন কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো কোরআনে সরাসরি পাওয়া যায় না। উদাহরণ হিসেবে আল-জালিল (মহিমান্বিত), আল-খাফিদ (অবনতকারী) ও আর-রাশিদ (সঠিক পথপ্রদর্শক) নামগুলোর কথা বলা হয়।
তৃতীয়ত, ৯৯টির অতিরিক্ত নামের পক্ষেও হাদিসের বর্ণনা রয়েছে। যেমন—আস-সাইয়িদ (মহান নেতা ও অধিপতি)। একটি বর্ণনায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ‘হে আমার নেতা’ বলে সম্বোধন করলে তিনি জানান, প্রকৃত অধিপতি হলেন আল্লাহ তাআলা। এ ছাড়া আদ-দাইয়ান, আল-হান্নান ও আল-মান্নান নামের কথাও বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়।
আল্লাহর নাম ৯৯টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এ মতের পক্ষে যেসব বিশিষ্ট আলেমের অবস্থান উল্লেখ করা হয়, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে আব্বাস (রা.), ফখরুদ্দিন আর-রাজি, ইবন কাসির, ইমাম গাজ্জালি, ইমাম কুরতুবি ও ইমাম বায়হাকি (রহ.)।
৯৯টি নামের হাদিসের ব্যাখ্যা কী?
আল্লাহর নামের সংখ্যা ৯৯টির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এ মত গ্রহণ করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে ৯৯টি নামের কথা উল্লেখ করে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে হাদিস বর্ণনা করেছেন, তার তাৎপর্য কী?
এ বিষয়ে আলেমরা একাধিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো, হাদিসে আল্লাহর নামের মোট সংখ্যা ৯৯টিতে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। বরং বিশেষভাবে ৯৯টি নামের ফজিলত বর্ণনা করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এসব নাম সংরক্ষণ করবে কিংবা যথাযথভাবে আয়ত্ত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
বিষয়টি বোঝাতে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। কেউ যদি বলেন, ‘আরিফের কাছে এক হাজার দিনার রয়েছে, যা তিনি সদকা করার জন্য প্রস্তুত রেখেছেন’, তাহলে এর অর্থ এই নয় যে আরিফের কাছে মোট সম্পদ এক হাজার দিনারই। বরং তাঁর সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ সদকা করার জন্য বরাদ্দ রয়েছে—এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
একইভাবে আল্লাহর ৯৯টি নামের হাদিসের অর্থও এমন হতে পারে যে, তাঁর অসংখ্য সুন্দর নামের মধ্যে ৯৯টি বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও ফজিলতের অধিকারী। যে ব্যক্তি এসব নাম যথাযথভাবে আয়ত্ত করবে, সংরক্ষণ করবে এবং সেগুলোর তাৎপর্য উপলব্ধি করবে, তার জন্য জান্নাতের সুসংবাদ রয়েছে।
এ ব্যাখ্যার সমর্থনে আর-রাজির ‘শরহু আসমাইল্লাহিল হুসনা’ গ্রন্থে আলোচনা পাওয়া যায়। (বৈরুত, ১৯৮৪, পৃষ্ঠা : ৭৮)
৯৯টি নাম কি নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে?
এ বিষয়ে আরেকটি মত হলো, পবিত্র কোরআন ও সহিহ সুন্নাহতে আল্লাহর যেসব সুন্দর নাম বর্ণিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যেই বিশেষ ফজিলতসম্পন্ন ৯৯টি নাম রয়েছে। তবে সেগুলোকে আলাদাভাবে নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করা হয়নি।
এই মত অনুযায়ী, কোরআন ও সুন্নাহতে আল্লাহর নামের সংখ্যা দুই শতাধিক পর্যন্ত পৌঁছেছে। কিন্তু বিশেষ ফজিলতসম্পন্ন ৯৯টি নামের পৃথক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এর সঙ্গে রমজানের শেষ দশকের মধ্যে লাইলাতুল কদর নির্দিষ্ট করে না জানানোর বিষয়টির তুলনা করা হয়। একইভাবে জুমার দিনের মধ্যে দোয়া কবুলের বিশেষ সময়টিও সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।
এর পেছনে একটি তাৎপর্য রয়েছে। মানুষ যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি নাম বা সময়ের মধ্যে নিজেদের আমল সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যাপকভাবে আল্লাহর সুন্দর নামগুলো সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করে এবং প্রতিটি সময়ে ইবাদত ও দোয়ার প্রতি মনোযোগী হয়। এর ফলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি বিশেষ ফজিলত লাভের সুযোগও তৈরি হয়।
সুতরাং আল্লাহর সুন্দর নামগুলো কেবল মুখস্থ করার বিষয় নয়; বরং প্রতিটি নামের অর্থ, তাৎপর্য ও শিক্ষা অনুধাবন করে সেভাবে আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। আল-আসমাউল হুসনার মাধ্যমে মহান আল্লাহর মহত্ত্ব, ক্ষমতা, দয়া, প্রজ্ঞা ও অসীম গুণাবলি সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি অর্জন করা সম্ভব।






